শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
চিতলমারী উপজেলায় এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হলেও ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসতেই জ্বালানি তেলের অভাবে নতুন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। তারা বলছেন, ধান কাটা, পরিবহন ও মাড়াই নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে বর্তমানে ধান কাটার রিপার যন্ত্র ও মাড়াই মেশিন চালাতে ডিজেলের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু দেশে এসব জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিসের কার্ড থাকা সত্ত্বেও পাম্পে ঠিকমতো মিলছে না জ্বালানি তেল। ফলে চাষিরা চরম হতাশায় ভুগছেন।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের কৃষিজমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের বেশির ভাগ জমিতে বছরে একবার রবি মৌসুমে বোরো ফসল চাষ করা হয়। উচ্চ ফলনশীল অসংখ্য জাতের ধান চাষ করা হয়েছে, পাশাপাশি কিছু দেশীয় জাতও রয়েছে।
কিন্তু এ বছর ফসল ঘরে তোলা নিয়ে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে ধান কাটার ক্ষেত্রে যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে, অন্যদিকে ধান কাটা ও মাড়াই মেশিন চালাতে যে জ্বালানি তেলের প্রয়োজন, তা চাহিদার তুলনায় পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলার দুর্গাপুর মাঠের চাষি প্রতুল হালদার ও শ্যামপাড়া গ্রামের বোরোচাষি নির্মল মণ্ডলসহ অনেকে জানান, ধান পাকতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে ধান কাটা শুরু হলেও মেশিনের জন্য পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। কৃষি অফিস থেকে তেলের জন্য যে কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ধান কাটার সময়েও যদি এই সংকট থাকে, তাহলে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন বড়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক নাসির মিয়া, রিপন মোল্লা, হিরামন মাঝিসহ স্থানীয় আরও অনেকে। তারা বলছেন, এ অবস্থায় কীভাবে ফসল ঘরে তুলবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত-আল-মারুফ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য এ পর্যন্ত শতাধিক চাষিকে তেলের কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তেলের বিষয়টি কেবল স্থানীয় নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি অফিস চাষিদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য পাশে আছে বলেও জানান তিনি।

