দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষধর সাপের কামড়ে সাগরিকা খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন ঠোটারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাগরিকা খাতুন একই এলাকার নুরে আলম জিকুর স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে বাড়ির বাইরে থাকা টয়লেটে যাওয়ার সময় অন্ধকারে সাগরিকা খাতুনকে একটি বিষধর সাপ দংশন করে। পরে স্থানীয় এক ওঝার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করা হয়। এতে তার অবস্থার অবনতি হলে রাত আড়াইটার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, রাতে সাপের কামড়ে ঠোটারপাড়া গ্রামের জিকুর স্ত্রী সাগরিকা মারা গেছেন। তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, রাত আড়াইটার দিকে সাগরিকা নামে এক সাপে কাটা রোগীকে তার স্বজনরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। সাপে কাটার পর কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া উচিত। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সাপের কামড়ে সাগরিকা নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে যায়। পরে নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ ও চিকিৎসকরা সাপের কামড়ের ঘটনায় ঝাড়ফুঁক বা ওঝার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

