কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মধুর (৪৮) ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রোয়াইলবাড়ি বাজারে আনসারুলের ফার্মেসির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত রফিকুল ইসলাম মধু বর্তমানে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত রফিকুল ইসলাম মধু কলসাটি গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। তিনি এড্রন ফার্মা কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত।
রফিকুল ইসলাম মধুর অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম মঞ্জুর মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের জের ধরে আরিফ, রাসেল ও সোহাগসহ ১০-১২ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
রফিকুল ইসলাম মধু বলেন, ‘আনসারুলের ফার্মেসিতে টাকা কালেকশন করতে গিয়েছিলাম। এ সময় ফেসবুকে কেন স্ট্যাটাস দিয়েছি—এ কথা বলে আমার ওপর হামলা করা হয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম মঞ্জু এবং উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রহিম মঞ্জু। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘গত ১৪ আগস্টের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আমার লোকজন উত্তেজিত হলেও আমি তাদের থামিয়ে রাখি। তবে গতকাল কিছু উঠতি বয়সী ছেলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মধুর কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে কেউ মারধর বা হামলা করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে আমার কিংবা আনিছুর রহমান বিপ্লবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার সময় বিপ্লব বাড়িতে ছিলেন।’
এদিকে রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুরুজ আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল বাবলু, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ইন্তাজুল হক আবু তাহের ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমানসহ দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান মজনুর মুঠোফোনে ২৮ আগস্ট বেলা ১টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

