নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫২) নামে এক স্বর্ণকারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল ও রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির অদূরের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে স্বর্ণকারের দোকান বন্ধ করে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন অলিফ চন্দ্র দত্ত। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির অদূরের একটি গলিতে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি চিৎকার করে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর কাছে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭ লাখ টাকা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট মেয়ে তমালিকা দত্ত বলেন, “আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই এটি মেনে নিতে পারছি না। আমার জানামতে, বাবা কারও কোনো ক্ষতি করেননি। তারপরও কারা এবং কী কারণে তাঁকে এভাবে হত্যা করেছে, তা আমরা জানি না। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নওগাঁর পুলিশ সুপারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ওসি আরও বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল ও রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শত্রুতা বা কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং নিহতের ভাইদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

