বিপ্লব কুমার দাস, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙ্গা বাজারসংলগ্ন কুমার নদে আয়োজিত এ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো নারী-পুরুষ। দীর্ঘ বিরতির পর ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ২৫টি নৌকা অংশ নেয়। নৌকাবাইচকে ঘিরে দুই দিন আগে থেকেই শুরু হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন।
দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই পাড়, সেতু, আশপাশের উঁচু ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ঢাক-ঢোল, করতালি ও উৎসুক মানুষের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে কুমার নদের পাড়। প্রতিযোগিতায় নৌকাগুলো দ্রুতগতিতে ছুটে চললে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয় ব্যাপক উত্তেজনা।
নৌকাবাইচ উপলক্ষে কুমার নদের দুই পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও খাবারের দোকান ঘিরেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী অন্যান্য নৌকার মাঝিদেরও পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ীদের রেফ্রিজারেটর ও এলইডি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব মোল্লা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, “সংস্কৃতি বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নৌকাবাইচ একটি নির্মল বিনোদনধর্মী প্রাচীন জলক্রীড়া। আমাদের শিকড়ের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার এই খেলাটি ঐতিহ্য বহন করে। যুবসমাজকে মাদক থেকে বাঁচাতে নির্মল বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই।”
সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, “নৌকাবাইচ আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এটিকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দীর্ঘদিন পর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়েছে। আশা করি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
আয়োজক ও স্থানীয়রা জানান, নিয়মিতভাবে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন করা হলে গ্রামবাংলার প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে।

