দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার পানিতে ডুবে সামিনা খাতুন (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের হায়দারের চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সামিনা হায়দারের চর এলাকার সাইদুল মালিথার মেয়ে। সে স্থানীয় চিলমারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে চারদিক তলিয়ে যাওয়ায় বাড়ির পাশের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে সামিনা। এ সময় তার বোন সিনা ও আরও একজন তার সঙ্গে ছিল। গোসলের একপর্যায়ে সামিনা পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা দুজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পানিতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে সামিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চঞ্চল হোসেন বলেন, বাড়ির পাশেই বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় সামিনা, তার বোনসহ আরও একজন সেখানে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সামিনা পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা দুজন চিৎকার করলে এলাকাবাসী ছুটে এসে প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, চারদিকে পানি থইথই করছে। শিশুরা বাড়ির আঙিনাতেই গোসল করতে নামছে। গত ১৫-২০ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা দুঃখিত।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের হায়দারের চর এলাকায় পানিতে ডুবে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

