নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলিহার রাজবাড়ী ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। শনিবার দুপুরে তিনি পৃথকভাবে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার বলিহার এলাকায় অবস্থিত বলিহার রাজবাড়ীতে যান ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার। এ সময় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু ফুলেল তোড়া দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে তাঁরা যৌথভাবে রাজবাড়ী চত্বরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।
পরিদর্শনকালে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ও সংসদ সদস্য রাজবাড়ীর বিভিন্ন অংশ, প্রাচীন স্থাপনা ও মন্দির ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। মন্দির কমিটি ও স্থানীয়রা বলিহার রাজবাড়ী ও মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানান।
এ সময় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার রাজবাড়ীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারে সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুও এ কাজে সার্বিক সহযোগিতার কথা জানান।
বলিহার রাজবাড়ির রাজেশ্বরী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ‘ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য একসঙ্গে এসে রাজবাড়ী ও মন্দিরের বিভিন্ন বিষয় ঘুরে দেখেছেন। মন্দিরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই অরক্ষিত এই ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ীটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হোক।’
পরে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে যান। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি পরিদর্শন বহিতে মন্তব্যও লেখেন।
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সহকারী পরিচালক (কাস্টোডিয়ান) মোহাম্মদ ফজলুল করিম আরজু বলেন, ‘ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার দুপুরের দিকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে আসেন এবং বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। তিনি জাদুঘরসহ বিহারের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেছেন। স্থানটি তাঁর ভালো লেগেছে এবং পরিবার নিয়ে আবারও আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের প্রাচীন নাম সোমপুর বিহার। পাল আমলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র ও বৌদ্ধবিহার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও দর্শনার্থীরা নিয়মিত এ ঐতিহাসিক স্থানে আসেন।
বলিহার রাজবংশের ইতিহাসও সমৃদ্ধ। স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮২৩ সালে জমিদার রাজেন্দ্রনাথ এখানে রাজ-রাজেশ্বরী দেবীর মন্দির নির্মাণ করেন। বলিহার রাজবাড়ি চত্বরে নাটমন্দির, রাজ-রাজেশ্বরী মন্দির, জোড়া শিব মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এসব স্থাপনার অনেক কারুকাজ ও স্থাপত্য নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় ৭০ দশমিক ৩১ একর জমির ওপর অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
বলিহার রাজবাড়ী পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘বলিহার রাজবাড়ী কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এই প্রত্নসম্পদ রক্ষা ও চত্বরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারও নওগাঁর প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

