পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে এক প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস ছিল মোছাদ্দেকুর রহমানের। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়। সেখানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে তাঁকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুল ছিটিয়ে ও ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানান তাঁরা। প্রিয় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের এমন আয়োজনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মোছাদ্দেকুর রহমান।
বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, ‘আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় বড় কষ্টের, তবুও একদিন সবাইকে বিদায় নিতে হয়। একজন শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে প্রিয় শিক্ষককে স্মরণীয় করে রাখতেই এমন ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে যখন কর্মস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান, তখন তাঁর জন্য মুহূর্তটি আবেগের। সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের রেখে চলে যাওয়া একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায় এমন সম্মানজনক হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ. কে. এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন, পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

