আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনায় আমতলীতে এলপিজি গ্যাসের সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫৯৮ টাকার পরিবর্তে খুচরা পর্যায়ে এসব সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলীতে ডিলাররা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। পরে খুচরা বিক্রেতারা তা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি কয়েকশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, “তিন দিন আগে তালুকদার বাজার থেকে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ টাকায় কিনেছি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।”
খুচরা বিক্রেতা আমান উল্লাহ বলেন, “ডিলার ইব্রাহিম ও বাচ্চু ভ্যানগাড়িতে করে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। ওমেরা, আইগ্যাস, বিএম, সেনা ও পেট্রোম্যাক্সের সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকা করে কিনছি। আমরা সামান্য লাভে বিক্রি করছি। বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
পেট্রোম্যাক্স গ্যাসের ডিলার ইব্রাহিম বলেন, “১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকা করে বিক্রি করছি।”
ওমেরা গ্যাসের ডিলার মো. আতিকুর রহমান বাচ্চু বলেন, “গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। বাজারে মাত্র কয়েকটি কোম্পানির গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ আছে। কোম্পানিগুলো সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকা দাম বাড়িয়েছে।”
বসুন্ধরা গ্যাসের ডিলার মো. মহিউদ্দিন বলেন, “গত দুই মাস ধরে কোম্পানি গ্যাসের সিলিন্ডার দিচ্ছে না। তাই বিক্রি বন্ধ রয়েছে।”
সেনা গ্যাসের ডিলার মো. রেজাউল বলেন, “এলপিজি গ্যাসের বেশ সংকট রয়েছে। মংলা থেকে ২০০টি সিলিন্ডার আনতে ১৯ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া দিতে হয়েছে। কোম্পানির মূল্য ও পরিবহন খরচ হিসাব করেই গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে।”
এদিকে, অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, বাজারে সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর অভিযান দাবি করেছেন তাঁরা।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির সুযোগ নেই। বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

