জয়পুরহাট প্রতিনিধি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিক আহমেদ। যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি এ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে গর্বিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী।
দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র আইকানিউজের অনলাইন গবেষণা প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে ৩৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আশিক। প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ১০ জনকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ দেওয়া হয়, যার মধ্যে তিনি অন্যতম। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইমার্স এডুকেশনের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বৃত্তি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আশিক আহমেদের এ আন্তর্জাতিক সাফল্যে তাঁকে অভিনন্দন জানান কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ।
আশিক আহমেদ জানান, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী কী উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া ইমার্স এডুকেশনের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বৃত্তি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ও সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আশিক বলেন, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের স্বীকৃতি অর্জন তাঁর জন্য আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয়। তাঁর এ অর্জন জয়পুরহাট জেলার অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা, লেখালেখি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বকুল বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর স্বীকৃতি অর্জন তাঁদের জন্য গর্বের বিষয়। আশিকের সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক লক্ষ্য ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তাঁর এ অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিদ্যালয় ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আশিকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। এ ধরনের অর্জন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।

