নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হিউম্যানিটিস অ্যান্ড ল’র আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহা. নজীবুর রহমানের স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ বলেন, ড. নজীবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত নিরিবিলি স্বভাবের মানুষ। তিনি কাজকে ধর্মীয় দায়িত্বের মতো গুরুত্ব দিতেন। মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় মুসলমানরা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কর্তব্যনিষ্ঠা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ড. নজীবুর রহমান ছিলেন সহজ-সরল মানুষ। যিনি একসময় সবার পাশে ছিলেন, তিনি আজ তাঁদের মধ্যে নেই। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং সবাইকে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, ড. নজীবুর রহমান ছিলেন একজন সজ্জন ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবার হিসেবে বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাময়িক এই পৃথিবীতে বিভাজন সৃষ্টি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বেঁচে থাকতে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্নাতকোত্তর শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন ড. আশেক কবির চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম, আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল কবীর এবং মরহুমের বড় ছেলে ও এনসিপি নেতা নাকিবুর রহমান। বক্তারা মরহুমের কর্মজীবন, ব্যক্তিগত গুণাবলি ও অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শোকসভা ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমাম হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইয়াহ্ইয়া। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মেট্রোরেলে স্ট্রোক করেন ড. মুহা. নজীবুর রহমান। পরে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

