রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী টেকারঘাটের টেকা সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।
১৯৮০ দশকে টেকা নদীর উপর নির্মিত পুরনো সেতুটি ভেঙে ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। খুলনা বিভাগীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ (প্রা:) লি: ও শামীম এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। চুক্তিমতে ২০২৩ সালের ৭ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
কাজ চলাকালীন সেতুর উচ্চতা কম এবং নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র না থাকায় ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। আদালতের নির্দেশে উচ্চতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এলজিইডি তা বাস্তবায়ন না করায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম নেই। বিকল্প হিসেবে কাঠের তৈরি সেতু দিয়ে ছোট যানবাহন ও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন, যা যেকোনো সময় ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের অভিযোগ, সেতু বন্ধ থাকায় তাদের আয় কমে গেছে এবং বিকল্প পথে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। মনিরামপুর ও অভয়নগরের জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কাজ সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন।
রিটকারী ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, “হাইকোর্টের দেওয়া সময় শেষ হলেও এলজিইডি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্দেশ মেনে ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।” ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মতিয়ার রহমান জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে, নির্দেশ পেলেই পুনরায় শুরু করা হবে।
এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান জানান, মামলা নিষ্পত্তি হলে কাজ পুনরায় শুরু হবে।

