রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার রূপসায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি শাখায় ভল্ট ভেঙে ১৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় ব্যাংকের তিন নিরাপত্তাকর্মী ও এক কর্মচারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং ব্যাংকের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিরা হলেন—নিরাপত্তা প্রহরী আফজাল, আবুল কাশেম, তরিকুল এবং ব্যাংক কর্মচারী ইউনুস। তাঁদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
চুরির ঘটনাটি ঘটে ১৪ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল থেকে ১৫ আগস্ট (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে—যখন ব্যাংক বন্ধ ছিল। প্রহরী আবুল কাশেম শুক্রবার রাতে ব্যাংকে এসে ভাঙা গেট দেখতে পান। এরপর তিনি ভেতরে ঢুকে ভাঙা ভল্ট ও এলোমেলো কাগজপত্র দেখতে পেয়ে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে। ব্যাংকের ক্যাশ পরীক্ষা করে দেখা যায়, ভল্ট থেকে মোট ১৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাখা ব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম। তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রূপসা থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরির সময় ব্যাংকের সব সিসিটিভি ক্যামেরার মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। তবে আশপাশের দোকান ও সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে চোরদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
চুরির ঘটনার পর শনিবার সকালে কৃষি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শাখা কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকে কী আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
খুলনা অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, শনিবার ছুটির দিন থাকায় তদন্ত কমিটি গঠন করা যায়নি। রোববার অফিস খুললে একটি কমিটি গঠন করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন উঠছে
স্থানীয়দের মতে, ব্যাংকটির অবস্থান খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে—পূর্ব রূপসা পেট্রলপাম্প ও বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি। তা সত্ত্বেও এমন একটি বড় ধরনের চুরি হওয়ায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে চুরির রহস্য উদ্ঘাটনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

