Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনলাইন জুয়ার ছোবলে শার্শা-বেনাপোলে হারিয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ

হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল

দেশে নতুন সামাজিক আতঙ্ক হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে অনলাইন জুয়া। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে ‘সহজে আয়’-এর প্রলোভনে তরুণ প্রজন্মসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই জুয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছে। যশোর জেলার শার্শা ও বেনাপোল এলাকায় অনলাইন জুয়া ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় সমাজব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন হাজারো যুবক অনলাইনে বাজি ধরে নিঃস্ব হচ্ছেন। এক ক্লিকেই উড়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কলেজছাত্র থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ব্যবসায়ী, চা দোকানি, সেলুনকর্মী, হকার, নিরাপত্তা প্রহরী, বাস-ট্রাক ও সিএনজি চালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুর—বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রথমে অল্প টাকা দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা বড় অঙ্কে রূপ নিয়ে সর্বস্বান্ত করছে পরিবারগুলোকে।

শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া, গোগা, কায়বা, বেনাপোল, শার্শা, উলাশী, লক্ষণপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় অনলাইন জুয়ার প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ায় হারানো টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। নাভারন, শার্শা, বেনাপোল ও বাগআঁচড়া এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কিশোররা দলবদ্ধ হয়ে গ্যাং তৈরি করে রাতে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে লুটপাট চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কলারোয়া উপজেলার ভুক্তভোগী আনারুল বলেন, বাসে যশোর যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাং চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে তার কাছে থাকা সব টাকা ছিনিয়ে নেয়। অচেতন অবস্থায় তাকে নাভারন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, “আগে চিহ্নিত চোর-ডাকাতদের ভয় ছিল, এখন উঠতি বয়সী কিশোররাই সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।”

বেনাপোলের আরাফাত রহমান জানান, মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে কিশোর-তরুণরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। পরে সেই টাকার যোগান দিতে গিয়ে তারা চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা এলাকার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

অন্যদিকে অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হওয়া যুবক আব্দুল্লাহ বলেন, “নেশার কারণে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছি। ধার করে খেলেছি, এখন দেনার দায়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। জীবনটা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে।”

স্থানীয়রা মনে করছেন, অনলাইন জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “অনলাইন জুয়া সমাজের জন্য বড় হুমকি। এর সঙ্গে চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ জড়িয়ে পড়ছে। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।” তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে সভা-সেমিনার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং মানুষকে বোঝানো—অনলাইন জুয়া পরিবার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।