যশোর প্রতিনিধি
যশোর জেলার খরস্রোতা চার নদ-নদী — ভৈরব, কপোতাক্ষ, মুক্তেশ্বরী ও চিত্রা — দখল ও দূষণের কারণে মুমূর্ষু দশার দিকে এগোচ্ছে। বিশেষ করে শহরের ভৈরব নদে পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরীক্ষায় ভয়াবহ দূষণের তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের যশোর রিসার্চ অফিসার সৌমেন মৈত্র জানান, দড়াটানা ও বারান্দীপাড়া ব্রিজ পয়েন্টে নদীর ডিজলভ অক্সিজেন (ডিও) মাত্র ৩.৮১ ও ৪.৬৯ শতাংশ, যা জীবনধারণের জন্য মারাত্মক কম। অন্যদিকে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন (বিওডি) যথাক্রমে ৯ ও ১০, যা বিপজ্জনকভাবে উচ্চ। ড. সাইবুর রহমান মোল্ল্যা উল্লেখ করেন, এই দূষিত পানি ব্যবহার মানুষের জন্য কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় এবং ত্বকের রোগসহ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নদী দূষণে যশোরের ২৮টি প্রতিষ্ঠান দায়ী। শহরের হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চালকল ও শিল্প-কারখানা অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলে আসছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বা মামলা হলেও কার্যকর নজরদারি নেই।
মুক্তেশ্বরী ও কপোতাক্ষ নদে অবৈধ দখল ও জমি ভরাটের কারণে স্রোতপ্রবাহ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। কপোতাক্ষ নদে ২০১১ ও ২০২০ সালে দুই পর্যায়ে পাউবো দ্বারা ৮১৭ কোটি টাকার খনন প্রকল্প সম্পন্ন হলেও নদী জীবন্ত হওয়ার সুফল মিলেনি। চিত্রা নদীরও দূষণ ও দখলের কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, ভৈরব নদে ২৬ কিলোমিটার নতুন ড্রেজিং ও চিত্রা নদীর ৩৯ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, নদী দখল ও দূষণ রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া নদীগুলোকে বাঁচানো সম্ভব নয়।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরী সম্প্রতি যশোরে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
যশোরের নদীসমূহের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে একসময়ের প্রাণবন্ত খরস্রোতা নদীগুলো এখন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলাবদ্ধতার বড় কারণ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

