Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাক খাদে, দিনাজপুরের ৭ শ্রমিক নিহত

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ৮:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের ঘটনায় দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার একাধিক গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

জীবিকার তাগিদে ঘর ছেড়ে বের হওয়া মানুষগুলো আর ফিরে না আসায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জনের মধ্যে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন এবং আহত হন আরও ছয়জন।

নিহতরা হলেন—দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫); বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রামের পলাশ হোসেনের ছেলে সুমন বাবু (২২), সইফ উদ্দিনের ছেলে বিষু (৪৫), বীর মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দিনের ছেলে আবু হোসেন (৪২) এবং রফিতুল্লাহ মন্ডলের ছেলে আব্দুর রশিদ (৬৫)।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একই গ্রামের একাধিক পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানোর বেদনায় পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন—আবার কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার। স্থানীয়রা জানান, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এই গ্রামে আগে কখনো ঘটেনি।

নিহত বিষুর পরিবারে রয়েছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, সামনে এসএসসি পরীক্ষা। ছোট মেয়েটি এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঢাকা।

অন্যদিকে আব্দুর রশিদ রেখে গেছেন বৃদ্ধ স্ত্রী লাইলী বেগমকে। ছয় মেয়ের সবাই বিয়ে হয়ে গেলেও বার্ধক্যে স্ত্রীর একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বজনরা বলছেন—“এখন তাকে দেখবে কে?

আবু হোসেন রেখে গেছেন দুই ছেলে দুই মেয়ে ও এক স্ত্রীকে এছাড়াও পলাশের ছেলে সুমন সে তো এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসতেই পারেনি সংসার এর অভাব অনটনের দায়ে। সংসারের স্বচ্ছলতা আনার লক্ষ্যে দূরপাল্লায় জীবিকার তাগিদে পাড়ি দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তারা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকাতেও একই শোকের চিত্র। একই গ্রামের তিনজনের মৃত্যুতে সেখানে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোর বেদনায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন পরিবার-পরিজনরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ছুটে যাচ্ছেন। দ্রুত লাশগুলো নিজ নিজ এলাকায় এনে দাফন সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শুধু সাতটি প্রাণই ঝরে যায়নি—একসাথে ভেঙে পড়েছে একাধিক পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার অবলম্বন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।