মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুড়ি উপজেলায় অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধান কাটার মাঝেই পানিতে দাঁড়িয়ে খাবার খেতে হচ্ছে কৃষকদের। রবিবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চায়ার হাওরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
জানা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে খালিয়াজুড়ি উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চায়ার হাওরেও শতাধিক হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
চায়ার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে কৃষক আব্দুর রহমানের ছেলে আবু কাসেম বলেন, বৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি বেশি, কিন্তু ধানের দাম কম। এ বছর খরচের টাকাই উঠবে না। এমন অবস্থায় আর চাষাবাদ করতে চান না বলেও তিনি জানান।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুড়ি উপজেলায় ৮৯টি হাওরে প্রায় ২০,২৩২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০,৯২৩ হেক্টর (৫৪%) জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ২,৭৮০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ১,৮০৫ হেক্টর জমির প্রায় ৭৯% ক্ষতি হয়েছে। এখনও প্রায় ৪,৭২৪ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টি থেমে রোদ উঠলে দ্রুত ধান কাটা শেষ করা সম্ভব হবে।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. শামীম মড়ল বলেন, এলাকায় শ্রমিকের তীব্র সংকট রয়েছে। টানা চার দিনের বৃষ্টিতে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি বেড়ে ১,৫০০ টাকা হয়েছে, সঙ্গে দুই বেলা খাবার দিতে হয়। সময়ের অভাবে অনেক শ্রমিক হাওরের পানিতেই দাঁড়িয়ে খাবার খাচ্ছেন।
শ্রমিক সর্দার কাসেম আলী জানান, তারা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করেন। একদিনে একজন শ্রমিক প্রায় এক একর জমির ধান কাটতে পারেন। জমির মালিকরা জনপ্রতি ১,৫০০ টাকা মজুরি ও দুই বেলা খাবার দিয়ে থাকেন।
এদিকে বিএনপি সহ-সভাপতি ও কৃষ্ণপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম এবং কৃষ্ণপুর আলীম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে ধানের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে থাকায় কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

