দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সুজন ইসলাম (৩২) নামে এক বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। আহত সুজন ইসলাম বাহিরমাদী গ্রামের মহরম জোয়াদ্দারের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হকের অনুসারী বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপনগর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি একরামুল হক গ্রুপ এবং ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নয়ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুর ও সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েকদফা বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতির ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরই সূত্রধরে রাতে বাহিরমাদী চৌরাস্তায় এলাকায় সুজন ইসলাম অবস্থান করলে যুবদল নেতা নয়ন গ্রুপের সমর্থকরা তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাথা, হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়ে গুরুতর জখম করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সুজনের ওপর হামলার খবর পেয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক গ্রুপের লোকজন পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলকারীরা পালিয়ে যায়।
হামলার খবর পেয়ে দৌলতপুর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে স্থানীয়রা আহত সুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, সুজনকে যারা কুপিয়ে আহত করেছে আমরা তাদের নাম-ঠিকানা পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

