মফিজুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বহির্বিভাগে মূল চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে রোগী দেখানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ওষুধের স্টোররুম ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে বহির্বিভাগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিবর্তে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের রোগী দেখার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধের নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ প্রকৃত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসকের চেয়ারে বসে সহকারীরা রোগী দেখবেন—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসক সংকট থাকলেও এর অজুহাতে চিকিৎসাসেবার মান কমানো যাবে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শৈলকুপার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন। তবে অনুমোদিত পদের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনেন ডা. জাহিদ রায়হান। তিনি বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা সচল রাখা এবং চিকিৎসকদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন।
পরে হাসপাতালের ওষুধের স্টোর পরিদর্শন করে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। রোগীরা যাতে সরকারি বরাদ্দের ওষুধের যথাযথ সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। কোনো রোগীকে অপ্রয়োজনে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্তর্বিভাগ পরিদর্শনকালে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। এ সময় শয্যার চাদর, খাবার সরবরাহ ও ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। কর্তব্যরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান কমানো যাবে না। চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান ও ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিভিল সার্জন চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানোর আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির কথাও জানান।
অতিরিক্ত মহাপরিচালকের আকস্মিক পরিদর্শনে হাসপাতালজুড়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রোগীরা এমন আকস্মিক পরিদর্শন নিয়মিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, এতে হাসপাতালের অনিয়ম কমার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মানও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

