রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা ও রূপসার আশপাশের এলাকা থেকে আসা একদল প্রতারক নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তেরখাদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাব-কন্ট্রাক্টর আবুল হোসেন মোল্লার দায়ের করা জিডিতে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে ০১৩৩৩৪৩৪৬৬৮ নম্বর থেকে তাকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে এটিএন বাংলা নিউজ-এর খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে একটি ‘নেতিবাচক’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা বন্ধ রাখতে হলে তিন হাজার টাকা দিতে হবে।
ভয়ে পড়ে আবুল হোসেন স্থানীয় একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে ০১৭৪৩৩২১৬৭১ নম্বরে ওই টাকা পাঠান। কিন্তু পরবর্তীতে আরও দুই হাজার টাকা চাওয়া হলে তার সন্দেহ হয়। প্রতারক বারবার ফোন না ধরায় নিশ্চিত হয়ে তিনি থানায় জিডি করেন।
তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, শুধু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়—ভূমি অফিস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আক্তার বলেন, “অপরিচিত পত্রিকার পরিচয়ে একদল ব্যক্তি অফিসে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার জানান, প্রথমে নানা অভিযোগ তোলে, পরে আপ্যায়নের জন্য চাপ দেয়। সাড়া না দিলে অশোভন আচরণ করে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রজিত সরকার বলেন,খুলনা থেকে আসা কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে দপ্তরে এসে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী হুমায়ুন কবির বলেন, সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করে।
এ বিষয়ে এটিএন বাংলা নিউজ-এর খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি মো. অসীম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের প্রতিষ্ঠানের কেউ নয়। আমাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা বিব্রত হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
তেরখাদা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী বলেন, এই অপসাংবাদিকতা রোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সরকারি দপ্তরে ঢুকে চাঁদা দাবি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এসব রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

