আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তারা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার (১৫ আগষ্ট) দুপুরে ক্ষুব্ধ ছাত্র—জনতা প্রতিকৃতিটি ভেঙে দিয়েছে।
জানা যায়, কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে একদল নেতা কর্মী ও সমর্থকরা রাতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ছাত্র জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফুটেজে দেখা যায়, মো: রাসেল হোসেন প্রতিকৃতির সামনে পুষ্পমাল্য রেখে যান। তবে, রাসেলের পরিচয় শনাক্ত হলেও বাকিদের পরিচয় এখনো অজ্ঞাত রয়েছে।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গভীর রাতে দু’জন ব্যক্তি এসেছিলো। একজন ফুল দিয়েছে, আরেকজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলো। তবে, এঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আরাফাত হোসাইন তার নিজস্ব ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন, কলারোয়ায় মুজিব প্রতিকৃতি ভাঙতে ইউএনওর বাধা। বাহ, বাহ, ইউএনও বাহ! ডিসি মোস্তাক আহমেদ কি আওয়ামী পুষছে?
তিনি আরো লেখেন, ইউএনও কীভাবে মুজিব রেখে অফিস করত? এই জুলাই বিপ্লবের পরেও তিনি কীভাবে বলেন— ভাঙার দরকার নেই, এখানে আমরা অন্য কিছু বানাব।
এবিষয়ে জানার জন্য কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জহুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সাতক্ষীরার একাধিক নাগরিক জানিয়েছেন, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আওয়ামী লীগের। তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত, প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়েছিলেন। এমনকি শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কারও নিয়েছিলেন। যার ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
বর্তমানে তিনি তার কার্যালয়সহ জেলার একাধিক কর্মস্থলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বসিয়ে নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

