রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তৈয়ব মুন্সি (২৬) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তাকে গ্রেফতারের পরপরই গাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহাগ মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে তৈয়ব মুন্সিকে ছিনিয়ে নেয়।
এই ঘটনায় মাঝিরগাতী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ (৪৫), এসআই আহম্মদ আলী (৩৫) ও কনস্টেবল ইব্রাহিম (৩৫) আহত হন। তাদের দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন এর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি পুলিশ দল রাতভর অভিযান চালায়। অভিযানে জামিরুল ইসলাম (৩৪), সৈয়দ আব্দুল করিম ও লিটন শিকদার (৩৫) নামের তিনজনকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সোহাগ মুন্সিকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার নম্বর: ১০/১৬.০৮.২০২৫।
মাঝিরগাতী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ বলেন, “তৈয়ব মুন্সিকে গ্রেফতারের পরপরই সোহাগ মুন্সির নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হই। তারা তৈয়বকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।”
প্রসঙ্গত, সোহাগ মুন্সি গাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

