শেখ আরিফুজ্জামান, কালীগঞ্জ প্রতিনিধি
১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বরাবরই শিক্ষাঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। যদিও ইতিহাসে এটি মাত্র ৩৭ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল ব্যতিক্রম।
নির্বাচনী উত্তাপ শুধু ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দেশের ৬৪ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ‘ডাকসু’ শব্দটি আলোচিত হয়েছে। তারই প্রমাণ সাতক্ষীরার আট শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য সাফল্য—যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি হল সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ী হয়েছেন।
কলারোয়া উপজেলার যুগিখালী গ্রামের আহসান হাবীব ইমরোজ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হয়ে জানান, তিনি নৈতিকতা, নিয়মতান্ত্রিকতা ও সামষ্টিক কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে নেতৃত্ব দিতে চান।
কলারোয়ার নিশিতা জামান নিহা, সমাজকল্যাণ বিভাগের ছাত্রী, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশ নেওয়া এই শিক্ষার্থী এবার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পর তিনি হলের তিনটি প্রধান সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তালা উপজেলার মেশারডাঙ্গা গ্রামের দীপিকা সানা, আইন বিভাগের ছাত্রী, শামসুন নাহার হল সংসদের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “সবার সমস্যা নিজের সমস্যা ভেবে সমাধানে কাজ করব। লক্ষ্য একটাই—সমান সুযোগ, অধিকার ও পড়াশোনাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।”
মৌতলা গ্রামের খাদিজা পারভীন, দর্শন বিভাগের ছাত্রী, রোকেয়া হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
কালিগঞ্জের ইমরান হোসেন, বিজয় ‘৭১ হলের সহ-সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়ে জানান, তিনি ক্যাম্পাসকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা গ্রামের আল মামুন, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে বলেন, “আদর্শ মানসিকতা ও পাঠকপ্রিয়তা গড়ার মধ্য দিয়েই সাহিত্য চর্চাকে এগিয়ে নিতে চাই।”
তালা উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের তাসনিম রুবাইয়াত, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া, কালিগঞ্জের মহৎপুর গ্রামের অভিজিৎ দত্ত, জগন্নাথ হলের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে ক্রীড়াচর্চায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তুলতে চান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য শুধু জেলার গর্বই নয়, বরং প্রমাণ করে, নেতৃত্ব গড়ে ওঠে মেধা, মনন এবং দায়িত্ববোধ থেকে—অঞ্চলগত অবস্থান তার একমাত্র মাপকাঠি নয়।

