গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে রোববার (১৯ এপ্রিল) শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হোসেন উদ্দিন শেখর, উপ-উপাচার্য সোহেল হোসেন এবং উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লাহ আল তোফায়েল আহমেদ। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান “সার্চলাইট”-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একাধিক বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশী সিফাত আহমেদের কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তার স্ত্রীকেও হুমকি দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে উপ-উপাচার্য সোহেল হোসেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ বলেন, “বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখেছি, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক আনিসুর রহমানের একটি অডিও ক্লিপে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ‘এক্সপার্ট সাইন’ নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “অডিওটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল নেই।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহমেদ আলীর স্ত্রীর নিয়োগকে ঘিরে ১৫–১৮ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আহমেদ আলী বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তবে উপাচার্য হোসেন উদ্দিন শেখর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

