দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
যে বয়সে বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে ১০ বছর বয়সী শিশু হাসান আলী। ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করে ছোট দুই ভাই-বোন ও বৃদ্ধ দাদা-দাদীকে নিয়ে কোনোভাবে চলছে তার সংসার।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নের গরুড়া মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলীর জীবন যেন এক নির্মম বাস্তবতার গল্প। পাঁচ সদস্যের পরিবারে এখন সে-ই একমাত্র উপার্জনকারী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাসানের বাবা হাবিবুর রহমান হবি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের রোজার ঈদের দিন ৩৭ বছর বয়সে মারা যান। তার চিকিৎসার জন্য জমানো প্রায় ৩ লাখ টাকা ও ছোট বোনের স্বর্ণের হার নিয়ে মা রোজিনা খাতুন অন্যত্র চলে যান। এরপরই নেমে আসে পরিবারের ওপর চরম দুর্দশা।
বাবার রেখে যাওয়া ভ্যান চালিয়েই এখন সংসার চালাচ্ছে হাসান। সারাদিন পরিশ্রম করে কখনো ৪০-৫০ টাকা, আবার কোনো দিন সর্বোচ্চ ১০০ টাকা আয় করে সে। সেই সামান্য আয় দিয়েই চলে ছোট বোন উম্মে হাবিবা, মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই জুনায়েদ হোসেন এবং বৃদ্ধ দাদা-দাদীর জীবনযাপন।
হাসানের দাদা-দাদী বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য তিলে তিলে জমানো অর্থ হারানোর পাশাপাশি মেয়ের এমন আচরণে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
স্থানীয়রা জানান, ছোট্ট এই শিশুকে ভ্যান চালাতে দেখে তাদেরও কষ্ট হয়। যে বয়সে তার স্কুলে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে কঠিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির খোঁজখবর নিচ্ছি এবং সহায়তার চেষ্টা করছি। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ইতোমধ্যে পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের সরকারি শিশু সদনে স্থানান্তর বা দাদার জন্য ছোট ব্যবসার ব্যবস্থা করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মানবিক সহায়তা ও সমাজের সহানুভূতিই পারে শিশু হাসানের জীবনে নতুন আলো ফেরাতে—আবারও তার হাতে তুলে দিতে বই-খাতা-কলম, ফিরিয়ে দিতে শৈশবের হাসি।

