ফরিদপুর প্রতিনিধি
বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকায় অবস্থিত পতিতাপল্লীতে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. জনি (১৯) বগুড়া জেলার শারিয়াকান্দি উপজেলার কাসাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। সেখানে মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামে তিনজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্তরা ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা প্রথমে বিয়ে ও উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে গত ১৪ মে তাকে ঢাকার ধামরাই থেকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আসা হয়। কয়েকদিন সেখানে রাখার পর ২১ মে সকালে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার রথখোলা পতিতাপল্লীতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তাকে ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি চিৎকার করে পালিয়ে গিয়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
পরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আরও দুইজন—তানিয়া ও দুখু—এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১০(১), ১০(২), ১১(১) ও ১১(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর-৭৮)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

