মো.মিজানুর রহমান, কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় এখন চিরসবুজের বুকে যেন হলুদের চাদর বিছানো। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুল, হিমেল বাতাসে এবং মৌমাছির গুনগুনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রকৃতি ও মানুষের শ্রমে গড়ে উঠেছে সম্ভাবনার এক জীবন্ত আলপনা।
চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা প্রধানত উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪ ও বারি-১৭ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও যত্নশীল চাষাবাদের ফলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতের পাশে স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মৌ-বাক্স, বিশেষ পদ্ধতিতে এসব থেকে মধু সংগ্রহ করছেন মৌ-চাষিরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫,২০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মানসম্মত প্রায় ১০ মেট্রিক টন সরিষার মধু সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান, কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে এবং নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদেব বিশ্বাস বলেন, সরিষা আবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে, একই সঙ্গে মৌ-চাষিদেরও প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা বাড়ানো গেলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানিরও সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
উপজেলার এই সরিষা চাষ ও মধু সংগ্রহের উদ্যোগ শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নই নিশ্চিত করবে না, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করবে। হলুদ চাদরে মোড়া কালকিনির সরিষা ক্ষেতগুলো তাই এখন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বরং সম্ভাবনাময় আগামীর প্রতিচ্ছবি।

