রাসেল আহমেদ, খুলনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা জেলায় ৮৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। এসব কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বিবেচনায় এনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন, অতীত নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ, ভোটকেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান, কেন্দ্রগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
আসনভিত্তিক হিসাবে খুলনা-১ আসনের ১১৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি, খুলনা-২ আসনের ১৫৭টির মধ্যে ১১৩টি, খুলনা-৩ আসনের ১১৫টির মধ্যে ৭৭টি, খুলনা-৪ আসনের ১৪৪টির মধ্যে ৯৬টি, খুলনা-৫ আসনের ১৫০টির মধ্যে ১১৫টি এবং খুলনা-৬ আসনের ১৫৫টির মধ্যে ১০৪টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৫৮টিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডি ক্যামেরা, যা সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটরিং করা হবে।
খুলনা জেলার জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় ১২০০ জন সেনা সদস্য মাঠে থাকবেন। এছাড়া নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক ইউনিটও দায়িত্ব পালন করবে। সব সিসিটিভি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, এবার ‘সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ভোট সংশ্লিষ্ট অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। কেউ ছবি বা তথ্যসহ অভিযোগ দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই প্রশাসনের লক্ষ্য।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের এই প্রস্তুতিকে ঘিরে খুলনায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

