দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের জয়পুর জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের গাফিলতির কারণে এবারও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো না ইসরাত জাহান (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকার সেনা সদস্য মাহাবুল হক এর মেয়ে।
পরীক্ষা বঞ্চিত ইসরাত জাহান জানান, তিনি ২০২৪ সালে জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধন করেন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফরমও পূরণ করেন। তবে হঠাৎ করে প্রায় দুই মাস আগে বিদ্যালয় থেকে তাকে জানানো হয়, তার নাকি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি।
পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
শিক্ষার্থী আরও বলেন, ২১ এপ্রিল আমার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৮ এপ্রিল আমাকে জানানো হয়, আমি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবো না। শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে আমার জীবনের মূল্যবান দু’টি বছর নষ্ট হয়ে গেল।
এ ঘটনায় তিনি দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ড কতৃপক্ষের কাছে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম নান্নু এমন ঘটনার দায় আংশিকভাবে শিক্ষার্থীর ওপর দিলেও পরবর্তীতে তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির দায় স্বীকার করেন। তবে তিনি ফরম ফিলাপের জন্য তিনবার টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, ওই ছাত্রী স্কুলে নিয়মিত ছিল না, শিক্ষার্থী অনিয়মিত হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথাযথ খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব ছিল, যা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পালন করেননি। এবছর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও আগামী বছর সে যাতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা করা শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ইসরাত জাহানের পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দোসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমি এখনো অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যোগাযোগ করলে আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।
এমন ঘটনায় অভিভাবক মহল শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মন দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন।

