মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুড়ির ৬ টি ইউনিয়নে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ৮৯ টি হাওরে ২০২৩২ হেক্টর জমিতে বোর ধান লাগানো হয়। বছরের শুরু থেকেই অতিবৃষ্টির ফলে ৩৭ টি হাওরের প্রায় অনেক জমি জলাবদ্ধতার কারণে আংশিক কাঁচা থাকলেও পানিতে ডুবে যাওয়ার আশংকায় শ্রমিকের চড়া মজুরী দিয়ে ধান কাটা শুরু করেছে কৃষক।
মেন্দিপুর ইউনিয়নের জিয়াখড়া গ্রামের কৃষক মোঃ কালাচান মিয়ার ছেলে মোঃ সিপন মিয়া বলেন, পানিতে ধান, দামে কম, অতিবৃষ্টি, শ্রমিকের সংকট,ও মহাজনের ঋণের টাকা সহ পঞ্চমুখী সংকটে আজ আমরা দিশেহারা অবস্থায় বেঁচে আছি। আতলাবিল ও ডুলনীর হাওরে আমার দুই একর (২০০ শতাংশ) জমির মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে, বাকি অর্ধেক চড়া মজুরী দিয়ে কাটিয়ে এনে, অতিবৃষ্টির কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। ধানের দাম কম, আমরা এখন কি করব? কিভাবে সংসার চলবে? পঞ্চমুখী বিপদে আছি বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানান।
নুরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক আবু জাহেদ আহমেদের ছেলে মোঃ আহছানুল হক বলেন, রোয়াইল হাওরে, আমার তিন একর ( ৩০০ শতাংশ ) জমির মধ্যে প্রায় এক একর (১০০ শতাংশ ) জমির ধান বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতা নষ্ট হয়ে যায়।
বাকি ২ একর জমির ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে আংশিক কাঁচা থাকলেও ১২০০/- (এক হাজার দুইশত) টাকা দৈনিক শ্রমিকের মজুরি হিসাবে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু ধানের বিক্রিয় মূল্য ৬০০/-৭০০/- (ছয়শত/সাতশত ) টাকা মন হিসাবে আমাদের আসল টাকা পরিশোধ হবেনা বলে তিনি খালিয়াজুড়ি কৃষি কর্মকর্তাকে জানান।
কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন ১২ এপ্রিল ২৮ শে চৈত্র মাসে নেত্রকোনা ৪ আসনের (মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি) মাননীয় এমপি জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর ধান কাটা উদ্ভোধন করেন। অতিবৃষ্টি হওয়ায় ফলে পানির জলাবদ্ধতায় কিছু জমি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৩৭ টি হাওরে প্রায় ১৭৩ হেক্টর জমিতে বোর ধান নষ্ট হয়ে গেছে এবং ৭৫৬ হেক্টর জমিতে বোর ধান জলাবদ্ধতার কারণে ঝুকিপূর্ণ আছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
তিনি আরো বলেন ২০২৩২ হেক্টর জমির মধ্যে ২৭ শে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১০২২০ হেক্টর জমির বোর ধান কাটা হয়েছে যার শতকের গড় পরিমাণ প্রায় ৫১% বলে মনে হয়।
কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন খালিয়াজুড়ি উপজেলা বিভিন্ন খাল,বিল খননের মাধ্যমে গভীরতা তৈরি করে জলাবদ্ধতার চাপ কমানোর সুযোগ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খালিয়াজুড়ি উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু যৌথ ভাবে বলেন, জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা, আমাদের খাল, বিল ও নদী খননের জন্য মাননীয় এমপি জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর মহোদয়কে বলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে খাল, বিল খননের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আশা করি সমস্যার সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা জামাতের আমীর মাওলানা মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করা উচিত, এবং পরিকল্পনা মোতাবেক যথাযথ ভাবে কাজ করিলে আমরা সবাই জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাব ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম বলেন, আমি ও আমার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ভাবে সব সময় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মাননীয় এমপি জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর মহোদয়ের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এলাকার জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য খাল, বিল,ও নদী খননের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আশা করি পর্যায়ক্রমে সকলের স্বার্থে সব কাজ হবে এবং অত্র উপজেলার উন্নয়ন হবে ইনশাআল্লাহ।

