নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক নির্জন পল্লীতে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথ হারিয়ে শিশু সন্তানের সামনে পালাক্রমে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক নারী। পুলিশ ঘটনার পাঁচ দিন পর শনিবার নির্যাতিতা নারী ও তার শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে নান্দাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
নির্যাতিতা নারী ও তাকে আশ্রয়দানকারী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত সোমবার নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি (ভালুকা) যাওয়ার পথে রাস্তা হারিয়ে তিনি নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকায় চলে আসেন। সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাড়াইল সড়ক হয়ে শিমুলতলা এলাকার একটি বিলে নিয়ে যায়। সেখানে চারজন ব্যক্তি পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।
পরে অপেক্ষমাণ আরও দুইজন তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় নারীর কোলে থাকা শিশু সন্তান কান্না করলে ধর্ষকরা শিশুটিকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। এতে শিশুটির চোখের নিচে ফুলে যায়।
শিমুলতলা এলাকার ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া জানান, ঘটনার রাতে রাস্তায় কাঁদতে থাকা নারী ও তার শিশু সন্তানকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নারী ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। পরে সুজন তাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন।
এদিকে, কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে কাজল মিয়া গভীর রাতে নারীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধায় ব্যর্থ হয় এবং আশ্রয়দাতা পরিবারকে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এছাড়া ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় সাবেক ইউপি সদস্য বাশারত মিয়া আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে নারীকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আশ্রয়দাতাকে হুমকি প্রদান করেন।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে শনিবার আশ্রয়দাতার বাড়ি থেকে নির্যাতিতা নারী ও তার শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

