Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত যশোরের জনজীবন

যশোর প্রতিনিধি
এপ্রিল ২৭, ২০২৬ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি

তীব্র দাবদাহ ও ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে যশোরের জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমের মধ্যে বিদ্যুতের অস্থির সরবরাহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ গেলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক। কোথাও কোথাও দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং গরমে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তীব্র গরমের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং যুক্ত হয়ে জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমানে বোরো ও ইরি ধানের মৌসুম চলায় সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার করছেন, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট কারখানা, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, ডেইরি ফার্ম, বরফ কারখানা ও রাইস মিলগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

এদিকে চলমান এসএসসি ও প্রাথমিক স্তরের পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। গরমে স্বাভাবিক ঘুমও হচ্ছে না তাদের।

স্বাস্থ্যখাতেও পড়েছে এর প্রভাব। গ্রামীণ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালানো যাচ্ছে না। এতে রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং গ্রীষ্মকালে চাহিদা বৃদ্ধি—এই তিন কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে যশোর অঞ্চলে বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৬৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘাটতি সামাল দিতেই পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চাহিদা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দাবদাহ ও বিদ্যুৎ সংকটের এই দ্বৈত চাপ দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।