শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আটুলিয়ার হাওয়ালভাঙি গ্রামে সহোদর ছোট ভাইয়ের নিকট থেকে জমির দলিল, ব্যাংক চেকগুলো ফেরত এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পেতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯ এপ্রিল (রবিবার) শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবে হাওয়ালভাঙি গ্রামের জিয়াদ আলী গাজীর পুত্র, মেসার্স রুহুল ফিশ-এর স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন— তার সহোদর ছোট ভাই ফজর আমিন ঢাকার যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়তে “মেসার্স আমিন ফিশ” নামীয় প্রতিষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মৎস্য ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে।
“মেসার্স রুহুল ফিশ” নামীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তার ছোট ভাই ফজর আমিন প্রতারণার ফাঁদে ফেলে রুহুল আমিনের বাড়ির জমির দলিল, জমির পর্চা, খাজনা পরিশোধের রসিদ, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি, শ্যামনগর শাখার ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকসহ মোট ১৯টি ব্যাংক চেকের পৃষ্ঠা, ঢাকার যাত্রাবাড়ী শাখার উত্তরা ব্যাংকের ৫০টি চেক বিশিষ্ট একটি বই, রুহুল আমিনের স্ত্রীর গ্রান্টার হিসেবে ছবি, ইসলামী ব্যাংকের ২টি চেক পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪ বছর ধরে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ করে দিতে না পারায় তিনি জমির কাগজপত্র, চেকগুলো ও ৩০ লাখ টাকা ফেরত চাইলে বাড়িতে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় ফজর আমিন ঢাকায় ভাড়া বাসায় চলে গিয়ে মৎস্য ব্যবসা শুরু করেন।
রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, তিনি বারবার এসব ফেরত চাইলে ফজর আমিন বাদী হয়ে ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি চেকে ৪০ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অপর একটি চেকে ৬২ লাখ টাকার হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন।
নিরুপায় হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা ব্যর্থ হলে ছোট ভাইকে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বারবার চাপ দিলে তিনি আরও মামলা করার এবং উক্ত কাগজপত্র ও চেক ফেরত দিতে অপারগতার হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন রুহুল আমিন।
সহোদর ভাইয়ের নিকট থেকে জমির দলিল, ব্যাংক চেকগুলো ফেরত এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

