দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। অনিয়মিত (ক্যাজুয়াল) শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দৌলতপুর সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলেও পরীক্ষার হলে তাদের ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি জানালে কক্ষ পরিদর্শকরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বকাঝকা করেন এবং ওই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল পুনর্বিবেচনা বা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকর মুখে পড়েছে। দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন এবং কিশোরীনগর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন ছাত্রী ও ১ জন ছাত্র।
কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ভূরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাশেদা খাতুন এবং বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বায়রুল ইসলাম। কেন্দ্র সচিব ছিলেন দৌলতপুর সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়ার আলী।
অভিযুক্তরা ভুলের কথা স্বীকার করে জানান, অসাবধানতাবশত প্রশ্নপত্র বদলে যায়। পরে তা সংশোধন করে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জেএমজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে, যেখানে একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি সংশোধন করা হয়।

