দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অনুমোদন ও লাইসেন্সবিহীন একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ফাতেমা খাতুন (১৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ডাংগের বাজার এলাকায় অবস্থিত আল মদিনা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিহত ফাতেমা খাতুন উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মধুগাড়ি গ্রামের বিদ্যুৎ হোসেনের স্ত্রী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকালে প্রসব ব্যথা নিয়ে ফাতেমাকে আল মদিনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেলে তাকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসক অপারেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান, ফাতেমা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় কোনো দক্ষ সার্জন বা ডিগ্রিধারী চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া অপারেশন কক্ষে থাকা কয়েকজন নারীরও কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ বা ডিগ্রি ছিল না। তাদের দাবি, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ওই ক্লিনিকে একাধিক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবুও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে আল মদিনা ক্লিনিকের মালিক জনি হোসেন বলেন, “অপারেশন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তার মৃত্যু ঘটে।” তবে অপারেশনের সময় বিশেষজ্ঞ সার্জনের উপস্থিতি বা ক্লিনিকের বৈধ অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন।
ঘটনার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক মালিকপক্ষ বিভিন্ন তদবির চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

