Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ২ জুন ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩৮ বছর পর বাড়ি ফেরা, আনন্দ-অশ্রুতে ভাসল মেহেরপুরের এক পরিবার

মেহেরপুর প্রতিনিধি
জুন ২, ২০২৬ ১২:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মেহেরপুর প্রতিনিধি

অভিমান করে ঘর ছাড়ার ৩৮ বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরে এলেন জবেদ আলী (৬৬)। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এই মানুষটির আকস্মিক প্রত্যাবর্তনে আনন্দ, কান্না ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দি গ্রামে।

সোমবার বিকেলে গ্রামের একটি পথে ধীরে ধীরে হেঁটে আসতে দেখা যায় এক বৃদ্ধকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সেই মানুষটিকে প্রথমে কেউ চিনতে পারেননি। তবে বাড়ির সামনে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষায় থাকা স্ত্রী রুশিয়া খাতুন তাকে দেখে চিনে ফেলেন। এরপরই আবেগঘন এক পুনর্মিলনের দৃশ্যের অবতারণা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে পারিবারিক অভিমান থেকে চার বছরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও স্ত্রী রুশিয়া খাতুনকে রেখে বাড়ি ছাড়েন জবেদ আলী। এরপর দীর্ঘ ৩৮ বছর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

রুশিয়া খাতুন বলেন, “প্রথম কয়েক বছর প্রতিদিন মনে হতো, আজ হয়তো ফিরে আসবে। পরে সবাই বলতে শুরু করল, সে আর বেঁচে নেই। কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে নতুন জীবন পেয়েছি।”

তিনি জানান, তাদের ছেলে বর্তমানে বিদেশে থাকেন। বাবার ফিরে আসার খবর পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন এবং দেশে ফিরে বাবার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, জবেদ আলী একসময় এলাকার পরিচিত মুখ ছিলেন। লাঠিখেলা ও যাত্রাপালায় তার ছিল বিশেষ খ্যাতি। তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা গ্রামের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় ছিল।

চাচাতো ভাই বক্কার আলী বলেন, “নতুন প্রজন্ম জবেদ ভাইয়ের গল্প শুনে বড় হয়েছে। আজ তাকে সামনে দেখে সবাই বিস্মিত ও আবেগাপ্লুত।”

দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে ফিরে এসে জবেদ আলীও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “অভিমান থেকেই চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের কথা কখনো ভুলতে পারিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করেছি। মানুষের ভিড়ে থেকেও নিজেকে একা মনে হতো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, পরিবারের ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। তাই সব অভিমান ভুলে শেষ বয়সে ফিরে এসেছি নিজের মানুষের কাছে।”

তার এই ফিরে আসার ঘটনায় বামন্দি গ্রামে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ৩৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসা জবেদ আলীর গল্প এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।