মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার এলাকাবাসী। একইসঙ্গে তারা রায় দ্রুত কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে উভয় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন।
রায় ঘোষণার পর সিরাজদিখানে স্বস্তির ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে জঘন্য এ অপরাধের দ্রুত শাস্তি কার্যকর না হলে ন্যায়বিচার পূর্ণতা পাবে না। এমন শাস্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন তারা।
রামিসার আত্মীয়রা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে আর ফিরে পাব না। তবু দ্রুত রায় কার্যকর হলে অন্তত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আমাদের সন্তানের আত্মা শান্তি পাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাদের মনে দাগ কেটে আছে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

