টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয় বন্ধের দিনে নষ্ট ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা খুলে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক এবং দপ্তরির বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তদের দাবি প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তারা এগুলো বিক্রি করেছে।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী ও দপ্তরি গণেশ টিকাদার।
গত শুক্রবার (২৯ মে) ঐ বিদ্যালয়ের নষ্ট ৪টি ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের অন্তত ২০ টি লোহার জানালা খুলে তারা বিক্রি করে দেয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিদ্যালয় খোলার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
একাধিক প্রতক্ষ্যদর্শী জানান, বিদ্যালয় বন্ধের দিনে আমাদের সামনে গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি পুরাতন ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা খুলে নিয়ে যায় সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী ও দপ্তরি গণেশ টিকাদার। পরে জানতে পেরেছি তারা সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছে।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী বলেন, ওইদিন প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার আমাকে ফোন করে বলে বইখাতা, ফ্যান ও জানালা বিক্রি করতে হবে। দপ্তরি আর আপনি সামনে থেকে এগুলো বিক্রি করেন। তখন প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বইখাতা সহ নষ্ট ৪টি ফ্যান ও পরিত্যাক্ত ভবনের জানালা খুলে বিক্রি করা হয়েছে।
দপ্তরি গণেশ টিকাদার বলেন, আমি সামান্য পোস্টে চাকুরী করি। আমি নিজে কখনো এগুলো বিক্রি করার অধিকার রাখি না। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এগুলো বিক্রি করেছি।
প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার বলেন, শুধুমাত্র পুরাতন বইখাতা বিক্রি করতে বলা হয়েছিলো দপ্তরিকে। কিন্ত তার সাথে ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা বিক্রির বিষয়ে জানিনা। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এমন প্রশ্নে কোন উত্তর না দিয়ে চলে যান প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার বলেন, বইখাতা, ফ্যান ও জানালা বিক্রি করতে অবশ্যই টেন্ডার দিতে হবে। যদি শুধুমাত্র সামান্য কিছু বইখাতা বিক্রির উপযোগী হয় সেটা রেজুলেশন করলেই হয়। কিন্তু রেজুলেশন বা টেন্ডার ছাড়া এগুলো বিক্রির সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

