ফেনী প্রতিনিধি
ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থী সুতি পাল (২১) রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার তার এক বান্ধবী ও ওই বান্ধবীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে। তবে পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
নিহত সুতি পাল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের আনোয়ারা গ্রামের টিটু পালের মেয়ে। তিনি ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিএবিএড (অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কলেজের সরকারি হোস্টেলে অবস্থান করতেন।
পরিবারের দাবি, রোববার (৭ জুন) বিকেলে একই কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাস্তি সুলতানা তাকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় রাস্তির প্রেমিক তানভীরও তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে জোরারগঞ্জ থানার আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাইপাস সড়কে সুতি পালের মৃত্যু হয়।
নিহতের বোন চেষ্টা পাল অভিযোগ করে বলেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কথা বলা হলেও ঘটনাটি রহস্যজনক এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর সুতি পালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ রমজান আলী শিকদার জানান, রোববার বিকেলে সুতি পাল প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে হোস্টেল থেকে বের হন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি জানতে পারেন, জোরারগঞ্জ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম বলেন, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে জোরারগঞ্জ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

