দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিটের ভয়াবহ ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে তিনটি গ্রাম। ঝড়ে উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা। এমনকি এলাকার শতবর্ষী একটি বটগাছও উপড়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার গোপকগ্রাম ইউনিয়নের সন্তোষপুর, গোপকগ্রামসহ তিনটি গ্রামের ওপর দিয়ে আকস্মিক এ ঝড় বয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৮৪ সালের পর এ ধরনের ভয়াবহ ঝড় তারা আর দেখেননি।
এলাকাবাসী জানান, বিকেলে হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হয়। এরপর প্রবল বাতাস ও বজ্রপাতের সঙ্গে তীব্র শব্দে ঝড় আঘাত হানে। মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিট স্থায়ী হলেও ঝড়ের তাণ্ডবে ছোট-বড় অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে এবং কয়েকশ ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়ের প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। প্রায় প্রতিটি পরিবারই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে।
সন্তোষপুর গ্রামের তাঁতি ফরিদ শেখ জানান, ঝড়ে তার ঘরের ওপর একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে। এতে তাঁত ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গোপকগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আলিম সরদার জানান, ঝড়ে তিনটি গ্রামে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গাছপালা উপড়ে গেছে এবং তাঁত শিল্পেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।”
ক্ষতিগ্রস্তরা আশা করছেন, সরকার ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তারা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

