নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজে শিক্ষক মিলনায়তনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কলেজ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে গত ৯ এপ্রিল দুপুরে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ নির্ধারিত চেয়ারে বসে আছেন। তার পাশে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে পানির ফিল্টার মেরামত নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই দুই শিক্ষক পরস্পরের দিকে তেড়ে গিয়ে কিল-ঘুষি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত শিক্ষকরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন নষ্ট থাকায় বিষয়টি একাধিকবার অধ্যক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন অভিযোগ করেন, পানির ফিল্টার মেরামতের বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ উল্টো কটূক্তি করেন এবং একপর্যায়ে তার ওপর হামলা চালান।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এককভাবে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিয়ম ও শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটছে। তারা জানান, ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক অসন্তোষও ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে কলেজের ১১ জন শিক্ষক গত ১১ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে চাচ্ছে। কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টাররোল কর্মচারীদের বেতন দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

