শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের আওতাধীন দৌলতদিয়া, পাটুরিয়া ও আরিচা লঞ্চঘাটের খোলা পন্টুনে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও কর্মরত স্টাফরা। বৈরী আবহাওয়ায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীসেবায় নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত পন্টুন আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া-আরিচা নৌরুটের তিনটি লঞ্চঘাটে খোলা পন্টুন থাকায় ঝড়, বৃষ্টি, তীব্র রোদ, শীত ও ঘন কুয়াশার সময় যাত্রী ও কর্মীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পন্টুনে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, টয়লেট কিংবা সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা নেই।
আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি মফিজুল ইসলাম বলেন, একসময় দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটটি মূল নদী থেকে কিছুটা ভেতরে থাকায় নিরাপদ ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীভাঙনের কারণে ঘাটটি এখন মূল স্রোতের মুখে চলে এসেছে। ফলে বৈরী আবহাওয়ায় ঢেউ, স্রোত ও ঝড়ের আঘাত সরাসরি পন্টুনে আছড়ে পড়ে। তিনি বলেন, পন্টুনের দুই পাশে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শেড নির্মাণ করা হলে যাত্রী ও কর্মীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট পরিদর্শনের সময় খোলা পন্টুনে যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরিচার বন্দর কর্মকর্তা সুব্রত পলাশ রায় জানান, ঈদুল আজহার আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনের সময় বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়। পরে আরিচা কার্যালয় থেকে দৌলতদিয়া, পাটুরিয়া ও আরিচা লঞ্চঘাটের পন্টুন আধুনিকায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে তিনটি লঞ্চঘাটের পন্টুনে আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

