নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
বাংলাদেশে জিংকের ঘাটতিজনিত অপুষ্টি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভাবিত জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত। ভাতকে প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ৭টি জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরের দৈনিক জিংকের চাহিদার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব।
ব্রি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বিশ্বের প্রথম জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত ‘ব্রি ধান-৬২’ উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ব্রি ধান-৬৪, ৭২, ৭৪, ৮৪, ১০০ ও ১০২ জাত অবমুক্ত করা হয়। এসব জাত উচ্চ ফলনশীল হওয়ার পাশাপাশি চালে জিংকের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪৬ শতাংশ শিশু এবং প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী জিংকের ঘাটতিতে ভুগছেন। জিংকের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, ক্ষুধামন্দা, চুল পড়া, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যজটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানান, উচ্চ ফলনশীল ধানের সঙ্গে পরাগায়নের মাধ্যমে এসব জিংকসমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। কৃষকরা এসব ধানের বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তী মৌসুমেও ব্যবহার করতে পারবেন। জিংকের পরিমাণ বেশি হলেও চালের স্বাদ, রং কিংবা রান্নার গুণগত মানে কোনো পরিবর্তন হয় না।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে জিংকসমৃদ্ধ ধানের আবাদ হচ্ছে। এসব জমি থেকে বছরে প্রায় ১৭ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ব্রি’র বিজ্ঞানীরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বেশি জিংক ও আয়রনসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে এসব জাতের আবাদ সম্প্রসারণ, মানসম্মত বীজ সরবরাহ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে জিংকসমৃদ্ধ চালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে এসব চাল অন্তর্ভুক্ত করা গেলে দেশের পুষ্টিহীনতা কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

