শামীম শেখ,গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি এলাকায় পদ্মা নদীর একটি ক্যানালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় অন্তত সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সাঁকোটি না থাকায় শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, নারী ও শিশুদের প্রতিদিন নৌকায়, সাঁতরে অথবা দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো বাঁশের সাঁকোটির ভাঙা অংশ পানিতে পড়ে রয়েছে। ফলে নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নুরাল মোল্লা জানান, প্রায় দুই মাস আগে প্রবল ঝড়, বাতাস ও ঢেউয়ের আঘাতে সাঁকোটি ভেঙে যায়। এরপর একাধিকবার মেরামতের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, আপাতত একটি নতুন বাঁশের সাঁকো নির্মাণে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষক মমিন মোল্লা, সহিদ মোল্লা, মোয়াজ্জেম চৌধুরী ও হাফিজুল মোল্লাসহ অনেকেই বলেন, সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া এবং মাঠে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে একটি ছোট ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
রেনু বেগম, জবেদা খাতুন, খোদেজা আক্তার ও রওশনারা আক্তারসহ স্থানীয় নারীরা বলেন, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের কাজে নদীর ওপারে যেতে হয়। সাঁকো না থাকায় দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় গৃহিণী মর্জিনা আক্তার বলেন, তাদের চাষের জমি নদীর ওপারে হওয়ায় নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। সবসময় নৌকা পাওয়া যায় না, তাই অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে পার হতে হয়। দ্রুত একটি নিরাপদ ব্রিজ বা সাঁকো নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে অস্থায়ী একটি সাঁকো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে স্থায়ীভাবে একটি ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

