আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক সংখ্যালঘু বিধবার বৈধভাবে ইজারা নেওয়া সরকারি জমি জাল দলিল তৈরি করে দখলের চেষ্টার মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মূল হোতাসহ সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ে মামলার প্রধান আসামি আকবর মোল্লা (৬০)কে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দলিলের সাক্ষী হুমায়ুন মোল্লাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। এছাড়া শাহজাহান মোল্লা, আব্দুল মান্নান মোল্লা, আলী হায়দার, গোলাপ খান ও নুরুল ইসলামকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে, ইয়াকুব মোল্লাকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রকিবুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, আদালত মামলার নথি, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখল ও দলিল জালিয়াতির বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
মামলার নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের পণ্ডিতবানা গ্রামের মৃত গণেশ চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী লক্ষী রানী দাস পাঁচুড়িয়া মৌজার ১৭১ শতাংশ সরকারি অর্পিত সম্পত্তি বৈধভাবে ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। তিনি নিয়মিত লিজের অর্থ ও সরকারি খাজনা পরিশোধ করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ওই জমির ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
তদন্তে উঠে আসে, জমিটির উচ্চমূল্যের কারণে একটি চক্র ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ভুয়া খাজনার দাখিলা, জাল স্বাক্ষর ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে একটি জাল সাব-কবলা দলিল তৈরি করে জমিটি দখলের চেষ্টা চালায়।
বিষয়টি ধরা পড়লে তৎকালীন পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জহুরুল হক বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, দলিলে উল্লেখিত দাতারা স্বাধীনতার পরই ভারতে চলে যান এবং তারা বাংলাদেশে এসে কখনো দলিল সম্পাদন করেননি। তাদের নামে ব্যবহৃত স্বাক্ষর, টিপসই ও খাজনার দাখিলাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জাল ছিল। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায় ঘোষণার সময় পলাতক নুরুল ইসলাম ছাড়া অন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী লক্ষী রানী দাস বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তিনি বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

