নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় প্রস্তাবিত বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন-এসটিএস) অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
শনিবার টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রীন সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। এর পাশে বা সংলগ্ন এলাকায় বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং বর্জ্যবাহী যানবাহনের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি যানজট বৃদ্ধি পাবে এবং শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
তারা আরও বলেন, বর্জ্য থেকে নির্গত দুর্গন্ধ ও দূষিত বাতাসের কারণে কাশি, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যাবে, যা শিল্পোন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বক্তারা পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও প্রধান সড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে উপযুক্ত স্থানে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা উচিত। তারা চেরাগ আলী এলাকায় প্রস্তাবিত এসটিএস নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের নিচে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্থানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছিল। সেসব কার্যক্রম বন্ধ করে জনস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে ওই স্থানগুলো ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে অস্থায়ী সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করা হবে। নির্ধারিত সময়ে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এ প্রকল্পের ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না; বরং নগরীর আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।”

