Nabadhara
ঢাকারবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যশোরের ভবদহে ফের জলাবদ্ধতা, ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পেও মিলল না সুফল; পানিবন্দি অর্ধশত গ্রাম

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
জুলাই ২৬, ২০২৬ ৮:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

টানা বর্ষণ ও নিম্নচাপের প্রভাবে আবারও জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে যশোরের ভবদহ অঞ্চল। জুলাই মাসজুড়ে বৃষ্টির কারণে যশোর ও খুলনার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং হাজার হাজার মাছের ঘের ও পুকুর। স্থানীয়দের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরকারি উদ্যোগে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও চলতি বর্ষায় তার সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভবদহ অঞ্চলের প্রায় এক লাখ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫, ২০০৬, ২০১৪, ২০১৬, ২০২০, ২০২১, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও ভবদহ অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় হরিহর, হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর মোট ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। এর মধ্যে হরি ও তেলিগাতি নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার খনন শেষ হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ভবদহ সুইসগেট এলাকায় দেখা যায়, গেটের কপাট সচল নয়। চারটি পাওয়ার পাম্প চালু রয়েছে এবং আরও পাঁচটি পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যশোরের অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বলারাবাদ, বেদভিটা, চলিশিয়া, বারান্দী, দিঘলিয়া, দামুখালী, কপালিয়া ও দত্তগাতী এবং মনিরামপুরের আসানগর, কুশখালী, কামিনীডাঙ্গা, হাটগাছা, নেবুগাতি, পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়িয়া, পাচাকড়ি, সুজাতপুর, কুলটিয়া, লখাইডাঙ্গা, মহিষদিয়া, আলীপুর, পোড়াডাঙা, পদ্মনাথপুর, পাড়িয়ালী ও দহাকুলাসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নদীগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া আমডাঙ্গা খালের সংস্কার না হওয়া এবং খালের ওপর নির্মিত সেতুর ত্রুটির কারণেও পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ডুমুরতলা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, “আমাদের গ্রামের ১৫৫টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ছয়টি বাড়ি ছাড়া সব বাড়ির উঠানে দুই থেকে তিন ফুট পানি। সামান্য আর বৃষ্টি হলেই ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হবে।”

মনিরামপুর উপজেলার হরিদাশকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপকর মণ্ডল জানান, তাদের ইউনিয়নের অন্তত কয়েকটি গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য হরিনাথ বিশ্বাস বলেন, বিলগুলো পানিতে থইথই করছে। মাছের ঘের ও ফসল তলিয়ে গেছে। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে এবং নতুন নতুন বাড়িতে প্রবেশ করছে।

কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, “কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই ৫০টির বেশি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলে টিআরএম চালু না করলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।”

এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।