মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
ছোটবেলা থেকেই একের পর এক শিক্ষাজীবনের সাফল্য। প্রাথমিক সমাপনীতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫, আর এখন এইচএসসি পরীক্ষায়ও উজ্জ্বল ফলাফলের প্রত্যাশা। স্বপ্ন একটাই—ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা। কিন্তু সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য।
যশোর সরকারি এমএম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাজবীদ শরিফ মনিরামপুর পৌর এলাকার বিজয়রামপুর বাঁধাঘাটা এলাকার রাজমিস্ত্রি শরিফুল ইসলামের ছেলে। শৈশব থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখে আসা তাজবীদ ২০১৮ সালে মনিরামপুর প্রতিভা বিদ্যানিকেতন থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। পরে ২০২৪ সালে মনিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপরই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু খুলনা বা ঢাকায় আবাসিকভাবে থেকে ব্যয়বহুল মেডিকেল কোচিং করার সামর্থ্য নেই তার পরিবারের।
তাজবীদের বাবা শরিফুল ইসলাম একজন দিনমজুর রাজমিস্ত্রি। গত দুই বছর ছেলের লেখাপড়ার জন্য যশোর শহরে বাসা ভাড়া, কলেজ ও কোচিংয়ের খরচ চালাতে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন চরম কষ্ট করে। এখন আর সেই ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
শরিফুল ইসলাম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে খুব ভালো ফলাফল করে আসছে। তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার। একজন বাবা হিসেবে আমি চাই তার স্বপ্ন পূরণ হোক। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে কীভাবে তাকে মেডিকেল কোচিং করাব, বুঝে উঠতে পারছি না।”
তাজবীদও আশাবাদী, যথাযথ সুযোগ ও প্রস্তুতির সুযোগ পেলে তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে পারবেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে খুলনার ডিএমসি কোচিং সেন্টারের কর্ণধর ডা. সিয়ামসহ সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
স্থানীয় সুধীজনেরও দাবি, আর্থিক অভাবে যেন এমন একজন অদম্য মেধাবীর স্বপ্ন থেমে না যায়। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে তাজবীদের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ:
তাজবীদের পিতা শরিফুল ইসলাম
মোবাইল/বিকাশ: ০১৯২০-৬৩৮০১৮

