মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশের একটি ঘেরের পানি থেকে জান্নাতি (১৩) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে।
নিহত জান্নাতি সৌদি প্রবাসী আরিফ খানের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার মা অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন। ফলে জান্নাতি দীর্ঘদিন ধরে দাদির সঙ্গে কোদালিয়া দক্ষিণপাড়ার বাড়িতে বসবাস করত। পাশাপাশি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত সে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অন্যান্য দিনের মতো বুধবার রাতে দাদির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল জান্নাতি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘর থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি ঘেরের পানিতে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।
পরিবারের দাবি, ভোরে তাল কুড়াতে যাওয়ার পর থেকেই জান্নাতি নিখোঁজ ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে, নিহতের বাবার স্বজনদের দাবি, জীবিত অবস্থায় জান্নাতির খোঁজখবর তার মা বা মাতুলালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত নেওয়া হতো না। তবে মৃত্যুর পর তার মামা আল আমিন থানায় হত্যার অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কিশোরীর মৃত্যু দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগতভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

