আর.কে. বাপ্পা, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বারবার জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের অর্থ ও শ্রম দিয়ে সড়কটি সংস্কারে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, চন্ডিপুর গ্রামের এই সড়কটি এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার দিনমজুর, শ্রমজীবী ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের গর্ত ভরাট, ইট বহন ও ইটের সলিংয়ের কাজ করছেন। কেউ ইট বহন করছেন, কেউ গর্তে মাটি ও ইট দিয়ে ভরাট করছেন, আবার কেউ ইট বিছিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা অনেকবার জনপ্রতিনিধিদের রাস্তার সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো কাজ হয়নি। মানুষের চলাচলের কষ্ট আর সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেরাই রাস্তা সংস্কারের কাজে নেমেছি।”
স্থানীয়রা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা পাকাকরণ ও উন্নয়নমূলক কাজ চললেও চন্ডিপুরের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার সামান্য ইটের সলিং সড়ক সংস্কারের জন্যও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সংস্কার ও পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

